স্টাফ রিপোর্টার,২৬ মে ২০২১(বিবিনিউজ):প্রথমবার শিশু ধর্ষণের অভিযোগে সাধারণ ক্ষমা করে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে একই শিশুকে দ্বিতীয় বারের মত ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ মমিন (১৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তবে মমিনকে ছাড়াতে স্থানীয় চেয়ারম্যান আজহার উদ্দিন বাদিকেই চাপ প্রয়োগ করছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
মঙ্গলবার (২৫ মে) রাতে ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নের বাদি গাওয়াইল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এঘটনায় অভিযোগ দায়ের করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধরসহ বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আটক মমিন উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের বাদি গাওয়াইল এলাকার আয়নাল হকের ছেলে ও ভুক্তভোগীর শিশুর চাচাতো ভাই।
ভুক্তভোগী ওই শিশুর বাবা বলেন, এর আগেও আমার শিশু কন্যার ওপর নির্যাতন চালায় মমিন। সেবার আমি ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। তিন থেকে চার দিন আগেও এখই ঘটনা ঘটায়। আমি আজ জানতে পেরে আর ঠিক থাকতে পারি নি, থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। পরে রাতেই পুলিশ মোমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে মোমিনের বাবা আমাকে মারধর করে। কে যেন আবার বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। একটা ঘর পুড়ে গেলে এলাকাবাসী এসে আগুন নেভায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ডাক দিয়ে কবির নামে এক ভাই বলেন, তোমার ভাতিজাকে ধরিয়ে দিছো কেন? প্রথমবারেই ধরিয়ে দেওয়া উচিৎ ছিলো বলতেই আমার হাতে মোবাইল দিয়ে কবির বলেন, এই নাও চেয়ারম্যান কথা বলবেন। মোবাইল কানে ধরতেই চেয়ারম্যান বলেন মোমিনকে থানা থেকে আনতে। রাজি না হলে তিনি বলেন তাহলে কি মোমিন সাজা খাটবো? পরে মোবাইল কবিরের হাতে দিয়ে দেই।
একাধিক ধর্ষণের অভিযুক্তকে ছাড়াতে বাদীর ওপর চাপ প্রয়োগের ব্যাপারে জানতে সোমভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহার আলী বলেন, বাদী ও বিবাদীরা ভাই ভাই। কবিরের মোবাইলে বাদীর সাথে কথা বলেছি। তবে কোন চাপ প্রয়োগ করি নি, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। ধর্ষণের বিষয় আপনি সমাধান করতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে তারা ভাই ভাই জন্য সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। যদিও সমাধানের ইখতিয়ার আমার নাই।
ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, মারধর ও বাড়িতে আগুন ধরানোর অভিযোগ এখনও পাইনি। তবে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে আদালতে পাঠানো হবে। একই সাথে ভুক্তভোগী শিশুকে স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।
